জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মনে করেন, বর্তমান সরকারের জন্য মেয়াদ পূর্ণ করার পূর্বশর্ত হলো জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, কেবল গায়ের জোরে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় গাইবান্ধা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির একটি আঞ্চলিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভার আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম এসব মন্তব্য করেন। মূলত এনসিপির সাংগঠনিক অগ্রগতির পর্যালোচনা এবং স্থানীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুযোগ করে দিয়ে যে ঐতিহাসিক ভুল করেছিলেন, তার কাফফারা বিএনপিকে দিতে হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ভুলেরই ফলস্বরূপ তারেক রহমানকে দীর্ঘ ১৬ বছর দেশের বাইরে কাটাতে হয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়াকে বছরের পর বছর কারাগারে থেকে নিজের জীবন অতিবাহিত করতে হয়েছে।
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ সতর্ক করে বলেন, “এই ইতিহাস থেকে তারেক রহমান শিক্ষা না নিলে এর পরিণতি কী হবে, তা কেউ বলতে পারবে না।” তাই তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, মেয়াদ পূর্ণ করতে হলে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্মিলিতভাবে এই দেশ থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বিতাড়িত করেছে, নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করেছে। তিনি জানান, এই সব পদক্ষেপই ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁর মতে, যখন (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগকে ট্যাকেল দিতে (সামলাতে) পারছে না, তখন বিএনপি ঐক্যের কথা বলছে।
বিএনপির উদ্দেশ্য নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর গণ–অভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই মরিয়া হয়ে ওঠে। তিনি অভিযোগ করেন, তারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। তাঁর ভাষায়, “এভাবে জোর করে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না।”
ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন যে, বিএনপি আজও তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, “চব্বিশের ৫ আগস্টের পর গণ–অভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। এভাবে জোর করে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না।”
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সারা দেশে একক প্রার্থী fielded করবে এনসিপি। জামায়াতের সাথে এনসিপির এজেন্ডাভিত্তিক জোট থাকলেও তা কোনো আদর্শিক জোট নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
অন্যদিকে, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, “তিনি ব্যক্তিগত ও আদর্শিক জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর জন্য শুভকামনা।”