১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত শক্তি দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। এছাড়া জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ এবং ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশ অবশেষে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

আগামীকাল শনিবার পালিত হতে যাওয়া ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট টেনে তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।” তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত। আর এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় ঐক্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

তার দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এসব আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।

তারেক রহমান বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।” তার মতে, দেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন এবং বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।

প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনাই হোক বাংলাদেশের আগামী নির্মাণের প্রেরণা ও পাথেয়। জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখা এবং ভবিষ্যতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ঠেকাতে তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ জানান।

বাণীর শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রত্যয়ে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের দীপ্ত উচ্চারণ হোক, “দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”। পরিশেষে তিনি জাতীয়ভাবে ৭ নভেম্বর উদ্‌যাপনের সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।