রাজধানীর পোশাক শিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ দূর করা, শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ, একটি সার্বজনীন মজুরি বোর্ড গঠন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানা পুনরায় চালু করা এবং ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের জোরালো দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে শ্রমিক মজলিস ঢাকা মহানগরী।

গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলো ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রভাষক আব্দুল করিম বলেন, “বিগত দিনের সরকারগুলোর মতো বর্তমান সরকারও মজুরি নির্ধারণকে সামনে রেখে বিভিন্ন ধরনের অকার্যকর পদক্ষেপ ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষুব্ধ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারকে বুঝতে হবে, এই সরকার শ্রমিকদের রক্তের ওপর দিয়ে গড়ে উঠেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের দমন-পীড়ন এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ দেশের আগামী দিনের টেকসই শাসনব্যবস্থাকে ব্যাহত করবে এবং এর ফলে দেশে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রমিক মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা খালেদ সানোয়ারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম এরশাদ, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, মহানগরী উত্তরের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শেখ মতিউর রহমান।

শ্রমিক মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আলহাজ মো. সিদ্দিকুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাফেজ তরিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা আতাউল হক, ডাক্তার আবু বকর সিদ্দিকী, মো. ফারুক হোসেন, ইসলামী যুব মজলিস কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাসান সাকী, মহানগরী উত্তর সভাপতি মাওলানা সালমান আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা মনির হোসাইন এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক এনামুল হকসহ আরও অনেকে।