জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। বক্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মুফতি আব্দুল মালেকের কোনো ক্ষতি হলে এ দেশের তৌহিদি জনতা ঘরে বসে থাকবে না, বরং তারা এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে। ইসলামপ্রিয় মানুষের কাছে অত্যন্ত আস্থাশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মুফতি আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধ করা হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা তাদের ক্ষোভ ও দাবিগুলো তুলে ধরেন।

উত্তরের সভাপতি মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক মুফতি নুর মোহাম্মদ কাসেমী এবং দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বিন ইয়ামিনের যৌথ পরিচালনায় বিক্ষোভ মিছিলটি সম্পন্ন হয়।

সমাবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহা উদ্দীন যাকারিয়া, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মাওলানা রাশেদ ইলিয়াস, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মাওলানা তাজুল ইসলাম আশরাফী এবং মুফতি জাবের কাসেমীসহ আরও অনেকে।

বক্তব্য প্রদানকালে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী উল্লেখ করেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং চরম নৈরাজ্যের শিকার হয়ে আসছে। তিনি বলেন, “দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও নৈরাজ্যের শিকার। এসব অপকর্ম বন্ধ করে জনগণের জানমাল, ইজ্জত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুষ্ঠু বিচার করে তা কার্যকর করতে হবে।”

ভারতের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনাকে দ্রুত সময়ে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আমরা শুধু দাওয়াত খাওয়ার জন্য ভারতে যাব না।”

অন্যদিকে, মাওলানা বাহা উদ্দীন যাকারিয়া বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সহনীয় মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।”

সবশেষে সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী দেশের সামগ্রিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানান।