কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিতে প্রাণ হারানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার স্বজন, সহকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার নানির কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি (মডেল স্কুল) মাঠে অবতরণ করে। হেলিকপ্টার থেকে তিতাসের মরদেহ নামিয়ে আনা হলে তাকে শেষবারের মতো দেখার জন্য স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে। এই মুহূর্তে পুরো এলাকায় এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এরপর মরদেহটি উপজেলার লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চবিদ্যালয় মাঠে traslad করা হয়। সেখানে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসিসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সেখানে তার নানির কবরের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।
তিতাসের এই অকাল প্রয়াণে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চলছে গভীর মাতম। প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তার মৃত্যুতে নগরকান্দার লস্করদিয়া এলাকাসহ আশপাশের পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর একটি অভিযান পরিচালিত হচ্ছিল। সেই সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে বলে জানা গেছে।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে তাকে বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।