নারায়ণগঞ্জে সাদপন্থিদের কোনো ধরনের মারকায নির্মাণ হতে দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে জীবন বিসর্জন দিয়ে হলেও তা প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা ও নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সাদপন্থিদের মারকায নির্মাণ রুখতে রক্ত দিতে তারা প্রস্তুত।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় ডিআইটি মসজিদের সামনে জুমার নামাজের পর এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেই সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।

নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ রেললাইনে সাদপন্থীদের মারকায নির্মাণ বন্ধ করা, রূপগঞ্জের তারাবোতে তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এবং ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এই সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন ওলামায়ে কেরাম এবং তাবলীগ জামাতের নারায়ণগঞ্জের অনুসারীরা।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মাওলানা আব্দুল আউয়াল গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট এবং বিদেশি ইহুদিদের ইন্ধন ও অর্থায়নে সাদপন্থিরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র করছেন। তার দাবি, সাদপন্থিরা আবারও বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা শুরু করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের মানুষ প্রয়োজনে রক্ত দিতে জানে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রূপগঞ্জের তারাবোতে সাদপন্থিদের তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম বন্ধ এবং হাজীগঞ্জ রেললাইনে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা জরুরি। এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যে তারা নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবেন। এ সময় তিনি সবকিছু আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও প্রদান করেন।

উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য প্রদান করেন জাকির হোসেন কাসেমী, মুফতি মাহবুব, হাফেজ মাওলানা জুবায়ের, হাজীগঞ্জ মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ইমরান হোসেন এবং হাফেজ মাওলানা তানিমসহ অন্যান্যরা।