রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও করতে যাওয়া জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতা-কর্মীদের পথরোধ করে আটকে দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর শাহজাদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কনফিডেন্স সেন্টারের পাশের সড়কে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের মিছিলটি থামিয়ে দেয়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সকাল থেকেই কনফিডেন্স সেন্টারের সামনে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা একটি মিছিল নিয়ে গুলশানের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ রোধ করেন।

পুলিশের এই বাধার মুখে নেতা-কর্মীরা সংলগ্ন সড়কের পাশে অবস্থান করেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেন। এসময় তারা ‘ভারতের আধিপত্য, রুখে দাও জনগণ’, ‘ত্রিবেদীকে বহিষ্কার করতে হবে’, ‘ঘেরাও ঘেরাও হবে, হাইকমিশন ঘেরাও হবে’ এবং ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’সহ বিভিন্ন ভারতবিরোধী ও প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি একতরফা প্রত্যাহার এবং চুক্তিভিত্তিক শোষণের প্রতিবাদ জানাতেই এই ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া জুলাই গণহত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে দ্রুত বহিষ্কারের দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা।

সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী এহসান সতর্ক করে বলেন, “আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করা না হলে দেশজুড়ে ভারতীয় পণ্য বর্জনের কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, তাদের দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে তাকে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হবে।