বিশ্ব ইজতেমা যেন সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাদপন্থিদের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর এক বিশেষ আহ্বানে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় দেশের ৬৪টি জেলার শীর্ষস্থানীয় আলেমরা অংশগ্রহণ করেন এবং এই দাবি উত্থাপন করেন।

সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু মহলের পক্ষ থেকে হেফাজত আমিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেখানে সাদপন্থিদের এবারের ইজতেমার জন্য তিন দিন টঙ্গী ময়দান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত জানতে চাওয়া হয়। আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী জানান, তিনি দেশের শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শ করে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। আর সেই উদ্দেশ্যেই আজকের এই পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছে।

পরামর্শ সভায় উপস্থিত আলেম-ওলামা এবং মুরুব্বিদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের নিকট দুটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়েছে।

প্রথম দাবিটি হলো— ২০২৫ সালের পর সাদপন্থিদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের যে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত ছিল, তা যেন বহাল রাখা হয়।

দ্বিতীয় দাবিটি হলো— ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের করা দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সভায় উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে এই মামলাগুলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও সতর্ক করে বলা হয়, এই বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে, ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নিজ নিজ জেলা পর্যায়ে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মুহাম্মদ আলী আকাতাবনগরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা নিয়ামুদ্দিন, মুফতি আতাউল্লাহ জিন্নাহ, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান মাহমুদ, মুফতি ফিকহিয়ারুল্লাহ আহমদী ও মাওলানা আনিসুর রহমান প্রমুখ।