জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শের মধ্যে মৌলিক অমিল রয়েছে। এই দুই দলের দীর্ঘমেয়াদে একসঙ্গে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই মোড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের আগে সংসদীয় রাজনীতির কৌশলগত স্বার্থে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করেছিল। তবে শুরু থেকেই এই দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান ছিল। জোট গঠনের পর থেকেই এনসিপির তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। এরই ধারাবাহিকতায় তাসনিম জারাসহ বেশ কয়েকজন নেতা দল ত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি সামান্তা শারমিনের দলত্যাগ করার ঘটনাটি দলটির ভেতরে বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে বলে তিনি জানান।
তার মতে, জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকার কারণেই এনসিপির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মতপার্থক্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও অনেক নেতাকর্মী দল ছাড়তে পারেন। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জামায়াতের জোট থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে রাজনীতি করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, জামায়াতের সংসদ সদস্য আমির হামজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অডিও, ভিডিও এবং স্ক্রিন রেকর্ডের বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি জানান, এসব বিষয়ে তার কাছেও কিছু তথ্য ও প্রমাণ পৌঁছেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুষ্টিয়ার দুই শিক্ষার্থীর মাধ্যমে তিনি এই তথ্যগুলো পেয়েছেন। তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে তিনি দ্য ডিসেন্ট ও রিউমার স্ক্যানারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “দ্য ডিসেন্ট আমির হামজার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।” তবে পরবর্তীতে অন্য একটি মাধ্যমের সাহায্যে তিনি কিছু অডিও-ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, আমির হামজাকে ঘিরে আলোচিত এই বিতর্কিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আগে থেকেই অবগত ছিলেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। তবে কুষ্টিয়া-৩ আসনে যোগ্য প্রার্থী না থাকায় জামায়াত আমির হামজাকে মনোনয়ন দিয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের উচিত এই বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা। যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে আমির হামজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা এবং সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এছাড়া জামায়াতের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের উচিত এসব অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।