বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত একটি সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, “জামায়াতের আমির কখনো মিথ্যা কথা বলেননি, এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি মনে করেন, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে অতিমানবীয় বা সম্পূর্ণ নিখুঁত হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা অনুচিত। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভুলত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, তবে সেই ভুলগুলো স্বীকার করে তা সংশোধনের মানসিকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাশেদ খাঁন আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতেও জামায়াতের কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যে আমিরকে বিশেষ আধ্যাত্মিক মর্যাদায় তুলে ধরার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা কীভাবে সব ধরনের ভুলের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেন? তার মতে, রাজনীতিতে অতীত কর্মকাণ্ড এবং দেওয়া বক্তব্যের যথাযথ জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।
জামায়াতের আমিরের রাজনৈতিক অতীত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, তিনি একসময় জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সে সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে তার অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসা উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দল পরিবর্তন করলেই কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে চলে যান না।
জামায়াতের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের দাবি, দলটি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি করেছে। অথচ বর্তমানে জামায়াতের নেতারা এমনভাবে কথা বলছেন, যেন অতীতে তারা কারও সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, জামায়াত অতীতে জাতীয় পার্টির শাসনামলে এরশাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছে, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে মন্ত্রিত্বের ভাগ নিয়েছে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গেও দলটির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, জামায়াতের বর্তমান নেতাদের বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকার জন্য জামায়াত এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাব দলটিকে দিতে হবে। তার অভিযোগ, অতীতের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। এ সময় স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।