মেহেরপুরের সদর উপজেলায় এক মুদি ব্যবসায়ীর বাড়ির প্রধান ফটকে ককটেল, কাফনের কাপড় এবং প্রাণনাশের হুমকি সম্বলিত চিরকুট ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধার করেছে। এই রহস্যময় ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়। ভুক্তভোগী মুদি ব্যবসায়ী পিন্টু ওই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা পিন্টুর বাড়ির গেটে একটি শপিং ব্যাগ ঝুলিয়ে রেখে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ওই ব্যাগ থেকে তিনটি ককটেল, একটি সাদা কাফনের কাপড় এবং তিন পাতার একটি দীর্ঘ হুমকি চিঠি উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভোরে পিন্টুর ছোট ভাই সুমন বাড়ির গেটের তালা খুলে বাইরে বের হতে গেলে ব্যাগটি ঝুলতে দেখেন। শুরুতে তিনি ধারণা করেছিলেন যে, দোকানের কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস সেখানে রাখা হয়েছে। তবে কাছে গিয়ে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে ভেতরে কাফনের কাপড়, বোমা ও চিরকুট দেখতে পেয়ে তিনি দ্রুত পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। এরপর গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে খবরটি থানা পুলিশকে জানানো হয়।
নিজের নিরাপত্তা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবসায়ী পিন্টু বলেন, “আমার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা নেই। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এগুলো রেখেছে, বুঝতে পারছি না। স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে ১০ দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাকে মুদি ব্যবসা ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা না করার জন্য বলা হয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রামদাসপুর পুলিশ ক্যাম্পের আইসি রিকাবুল ইসলাম প্রয়োজনীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে বোমাসদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও চিরকুট জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির এই বিষয়ে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।”