নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পাঁচ বছরও পেরোয়নি, এর মধ্যেই কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও ফাটল, আবার কোথাও সড়ক ফুলে উঁচু-নিচু হয়ে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে ডোমার পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটারের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কটি। ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।

নীলফামারী জেলার পাশাপাশি প্রতিবেশী পঞ্চগড় জেলার হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ এই মহাসড়কটি। বিশেষ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে পাথর ও বালুবাহী ভারী ট্রাক নিয়মিত চলাচলের কারণে সড়কটির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। কিন্তু নির্মাণের অল্প কিছুদিন না পেরোতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈয়দপুর থেকে নীলফামারী হয়ে ডোমার পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গেছে। কোথাও সড়কের উপরিভাগে ফাটল, আবার কোথাও মাটি ফুলে উঁচু ঢিবির আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ভাঙা অংশ এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকেরা প্রায়ই বিপরীত দিকের লেনে চলে আসায় মুখোমুখি সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

সড়কটি মূলত দুটি ভিন্ন অংশে নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দপুর-নীলফামারী ১৫ দশমিক ৩২১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ২ আগস্ট এবং শেষ হয় ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে নীলফামারী-ডোমার ২২ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার জেলা সড়কের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে এবং শেষ হয় ২০২৩ সালে। দুটি অংশ মিলিয়ে প্রায় ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি এখন বেহাল। স্থানীয়রা জানান, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও তদারকির অভাবে সড়কটির এই অবস্থা।

স্থানীয় রায়হান সবুক্তগীন বলেন, সড়কের কোথাও কোথাও অংশবিশেষ সংকুচিত হয়ে উঁচু হয়ে আছে, যা মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালকদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে রাতে চলাচল করা দুরূহ হয়ে পড়ে এবং ছোট যানগুলো প্রায়ই ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

নিয়মিত যাতায়াতকারী শামীম সরকার বলেন, রাস্তা ভাঙা থাকায় নানা বিপাকে পড়তে হয়। পাশের লেন ভাঙা থাকায় বাস বা ট্রাক অন্য সাইডে চলে আসে। কিছুদিন আগেই এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় একজন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রমেন চন্দ্র বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার খুব বেশি দিন হয়নি। কাজ চলার সময় থেকেই একদিকে মেরামত করা হলে অন্যদিকে উঠে যেত। দায়সারা কাজ শেষ করা হয়েছে। বাসচালক হারেজ মিয়া বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সবাই ভালো অংশ দিয়ে যেতে চায়। এতে বিপরীত দিক থেকে আরেকটি গাড়ি হঠাৎ চলে এলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

নীলফামারীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টিতে সড়কের কিছু স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। পাশাপাশি পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া থেকে অতিরিক্ত পাথর ও বালুবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলের কারণেও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নীলফামারী থেকে ধরনীগঞ্জ এবং সোনারায় থেকে চিকনমাটি পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিটার সড়কের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এসব অংশ নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেখভালের নির্ধারিত সময়ে তারা যেসব মেরামতকাজ করেছে, সেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একই জায়গায় বারবার ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে আমাদের বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সড়কটি চলাচলের উপযোগী রাখতে নিয়মিত সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিটার সড়ক নতুন করে রিজিড পেভমেন্ট করার প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।