নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় আবুল কালাম নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কেবল তাকে মারধরই করেনি, বরং তার পায়ের রগও কেটে দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায়। আহত আবুল কালাম (৩৫) বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য হিসেবে কর্মরত। তিনি ছুটিতে নিজের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
আহত পুলিশ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের দাবি, কয়েক দিন আগে শাহাদাত ও এমদাদুল নামের স্থানীয় দুই মাদক কারবারিকে তিনি পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই শাহাদাতের ছোট ভাই শাহজালাল বিভিন্ন সময়ে আবুল কালামকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শাহজালাল ফোন করে আবুল কালামকে বাড়ির পাশে একটি নির্জন স্থানে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা শাহজালালসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা তাকে প্রচণ্ড মারধর করে তার হাত-পা ভেঙে দেয় এবং পায়ের রগ কেটে দেয়। আবুল কালামের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়।
এই বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তার হোসেন জানান, “এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত আবুল কালাম বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত। তবে গত ছয় মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে যোগদান না করে নিজ এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রাথমিকভাবে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। মাদক কারবার-সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করা কিংবা কাউকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”