নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে এক শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে দাউদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফজাল মোল্লার বিরুদ্ধে। এই গুরুতর অভিযোগের এক দিন পর অভিযুক্ত আফজাল মোল্লাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপি।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা একরামুন্নেছা বিউটির অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কালনী হিড়নাল উচ্চবিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে এই ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে আফজাল মোল্লাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা একরামুন্নেছা বিউটি বিস্তারিত অভিযোগ করে বলেন, “২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর ১০ থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে আফজাল মোল্লার সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরেই বুধবার দুপুরে আফজাল মোল্লা বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন।” তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন খানের নির্দেশেই তিনি লাইব্রেরিতে গিয়েছিলেন, যেখানে এই হামলার শিকার হন।

ওই শিক্ষিকা আরও অভিযোগ করেন যে, ঘটনার সময় যখন অন্য শিক্ষকরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন, তখন আফজাল মোল্লা তাদেরও ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে গালিগালাজ করেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

অন্যদিকে, শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আফজাল মোল্লা মুঠোফোনে দাবি করেন, “বিউটি আওয়ামী লীগের দালাল।” এ বিষয়ে বিস্তারিত সরাসরি কথা বলবেন জানিয়ে তিনি দ্রুত ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পুরো বিষয়টি নিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।