সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তুলতে সাদা পাথর ঘাটে একটি দৃষ্টিনন্দন ‘ভিউ পয়েন্ট’ নির্মাণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নবনির্মিত এই ভিউ পয়েন্টটির ফলক উন্মোচন এবং ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “সাদা পাথরের অপার সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক এখানে ছুটে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই পর্যটকেরা যেন প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপ মনভরে উপভোগ করতে পারেন এবং এখানকার স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই ভিউ পয়েন্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী alongside আরও উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল মান্নান মনাফ, সাবেক সভাপতি হাজী মো. সাহাব উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া, সিলেটস্থ কোম্পানীগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেইন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গনী, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শওকত আলী বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল মুত্তাকিন বাদশা এবং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এদিকে উদ্বোধনের পরপরই এই দৃষ্টিনন্দন ভিউ পয়েন্টটি সর্বসাধারণ ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। নতুন এই স্পটটি চালু হওয়ার সাথে সাথেই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পাহাড়, নদী আর সাদা পাথরের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে ঘেরা এই ভিউ পয়েন্টটিতে দাঁড়িয়ে ছবি ও সেলফি তুলতে পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা ইকবাল মাহমুদ নামের একজন শিক্ষক তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “এই ভিউ পয়েন্টটি থেকে মেঘালয়ের পাহাড়, নদীর জল আর সাদা পাথরের নৈসর্গিক রূপ একসঙ্গে দারুণভাবে দেখা যাচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে এটি সত্যিই একটি অসাধারণ উদ্যোগ।”
অপর এক পর্যটক ফারিয়া জান্নাত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “সাদা পাথরের সৌন্দর্য দেখে মন ভরে গেছে। আর এখানকার স্মৃতিটা ফ্রেমবন্দি করে রাখতে সাদা পাথর লেখা ভিউ পয়েন্টে ছবি তুললাম। সত্যি বলতে, জায়গাটি আমাদের ভীষণ ভালো লেগেছে।”