জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণার মাত্র পনেরো দিন পার হতে না হতেই দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সামান্তা শারমিন। তার এই আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং দলটির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামান্তা শারমিন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এনসিপি থেকে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি দলের অভ্যন্তরে নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতা, গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব এবং কোনো কাউন্সিল আহ্বান না করেই পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার বিষয়টিকে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, এনসিপি গঠনের পর প্রথম কমিটিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাসনিম জারা। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। অন্যদিকে, এনসিপির পূর্ববর্তী সংগঠন জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মাহফুজ আলম। পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে ‘অল্টারনেটিভ’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন।
রাজনীতিতে সামান্তা শারমিনের গুরুত্ব ও তার জায়গার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন তাসনিম জারা। তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতিতে কথা বলতে আসা মানুষের অভাব নেই। শুনতে আসা মানুষ খুব কম। সামান্তা আপাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি সেই অল্প মানুষদের একজন। অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, তবু কেউ কথা বলতে এলে থামেন, পুরোটা শোনেন, মানুষটাকে কখনো বুঝতে দেন না যে তার তাড়া আছে।’
সামান্তার মানবিক গুণাবলির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, ‘তিনি মানুষের কাছে যান তাদের জীবনটা বুঝতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে।’
সামান্তার রাজনৈতিক যাত্রার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এবং আরও দীর্ঘ বলে মনে করেন তাসনিম জারা। তিনি লিখেছেন, ‘এমন মানুষের জায়গা আমাদের রাজনীতিতে আরও বড় হওয়া দরকার।’
অন্যদিকে, সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির তীব্র সমালোচনা করেছেন মাহফুজ আলম। আজ শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘৬ সদস্যের বৈষম্যবিরোধী লিয়াজোঁ কমিটি থেকে চার শতাধিক কমিটির জাতীয় নাগরিক কমিটিতে উত্তরণ ও বিস্তারে যাদের মুখ্য অবদান আছে, তাদের নিয়ে নোংরামি এবং অপপ্রচার একটা বাজে নজির। আগেও হয়েছে অনেক। দল গঠনের দিন থেকে এ নজির সে দলের তৎকালীন নেতৃত্বই স্থাপন করেছিলেন। গতকালও সামান্তা শারমিন আপাকে নিয়ে একই কাণ্ড হলো।’
মাহফুজ আলম মনে করেন, লিয়াজোঁ কমিটি এবং নাগরিক কমিটিতে যারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের অবদান না থাকলে একটি রাজনৈতিক দল এত দ্রুত গঠিত হওয়া সম্ভব হতো না।
যারা দলের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন কিন্তু জোটের কারণে চলে গেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার আহ্বান জানান তিনি। মাহফুজ আলম লেখেন, ‘তারা দিনরাত পরিশ্রম করেছেন বলেই দলটাকে আপনারা একটা শেইপে পেয়েছিলেন। আর কৃতজ্ঞতা না দেখাতে পারলে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও ভালো চর্চার খাতিরে নীরব থাকুন।’