লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অসুস্থ মাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে যাতায়াতকালে গুরুতর আহত হন মো. হেলাল (৩৮)। পরবর্তীতে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার আথাকরা বাজার থেকে নোয়াখালীর মাইজদীর দিকে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত হেলাল রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের আমিন উদ্দিন জমদ্দার বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় আথাকরা বাজারে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন হেলালের মা স্ট্রোক করেন। তাঁর উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে নোয়াখালীর মাইজদীতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে রওনা হন হেলাল। যাত্রাপথে স্থানীয় মুন্সী রাস্তার আগে সড়কের পাশে থাকা বাঁশবোঝাই একটি গাড়ি থেকে হঠাৎ একটি বাঁশ ছিটকে এসে তাঁর চোখে ঢুকে যায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। চোখে বাঁশের অংশ বিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখ থেকে বাঁশের অংশটি বের করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই দুর্ঘটনায় হেলালের মা, বোন এবং মেজো ভাবিও আহত হয়েছেন। তাঁরা নোয়াখালীর মাইজদীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “হেলাল আথাকরা বাজারের পরিচিত মুখ ছিলেন। খুব ভালোমানুষ ছিলেন তিনি। নিজের অসুস্থ মাকে চিকিৎসকের কাছে নিতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হবে।”