নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত বুধবার শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে, যাতে মোট ৩৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে নির্দিষ্ট করে ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশেরই কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক নাদিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার জেলার শিল্পাঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, কোথাও নতুন করে শ্রমিক বিক্ষোভ বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই পরিচালিত হয়েছে।

সকাল থেকেই ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী, কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট এবং সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। বিশেষ করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও চাষাঢ়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “পোশাক কারখানাগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে শ্রমিকেরা রাস্তায় নামতে পারেননি। কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক কাজ হয়েছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”

ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল বুধবার সকালে। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা দাবি করে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকায় কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। তাঁরা আশপাশের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদেরও কাজে বাধা দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন।

শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রমিকেরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই সংঘর্ষে পুলিশ ও শ্রমিকসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার কাচ ভাঙচুর করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ ৪২ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। রূপগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা নাদিম হোসেনের নামও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “কাঠেরপুলে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। ফতুল্লার শ্রমিক আন্দোলনে নাদিমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। কায়েতপাড়া থেকে লোক পাঠিয়ে তিনি আন্দোলনে নাশকতার চেষ্টা করেছেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।”