নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উসকানি ও নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের ২১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী মুক্তকণ্ঠকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার যুবলীগ নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল, কার্যকরী সদস্য মজিবর, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, রাকিব হোসেন, ওয়াসিম, রতন, মো. রাকিব এবং ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম। এছাড়া প্রজন্মলীগের ফতুল্লা থানা শাখার সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত জনিসহ আরও কয়েকজনের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধের ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— লামাপাড়া এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার মৃত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)। পাশাপাশি বুধবার আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক শামীম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালেও ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলনের চেষ্টা ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। সকাল ৯টার পর থেকে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ওই এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল ১০টার দিকে তারা মূল সড়কে ওঠার চেষ্টা করলে আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা প্রদান করেন। ফলে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করতে ব্যর্থ হন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় পাঁচটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বুধবার সকালে এসব কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে এলেও কর্মস্থলে না গিয়ে সড়কে নেমে অবরোধের চেষ্টা করেন। শুরুতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন। তবে শ্রমিকেরা পুলিশের কথা শুনতে না করে সড়কে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এই সময় শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনায় ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সার্বিক পরিস্থিতি ও মামলার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উসকানি ও নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিল। শ্রমিকেরা যাতে সড়কে নেমে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে জন্য তাদের আজ কোথাও জড়ো হতে দেওয়া হয়নি।”

উল্লেখ্য যে, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গত সোমবার ও মঙ্গলবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন পোশাক শ্রমিকেরা। এর ফলে চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং দুই দিনই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।