বেতন বাড়ানোর দাবিতে নারায়ণগঞ্জে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার এই আন্দোলনের সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকেরা পুলিশ লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জেলা পুলিশের তিনজন এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ছয়জনসহ মোট নয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ ও ধাওয়ার মুখে একপর্যায়ে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সড়ক ছেড়ে চলে যান। সংঘর্ষ চলাকালীন একজন শ্রমিক আহত হওয়ার প্রাথমিক খবর পাওয়া গেলেও, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাঁর নাম-পরিচয় বা আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার আবীর ফ্যাশন, মেট্রো নিটওয়্যার, মাইক্রো ফাইবার ও আজাদ নিট কম্পোজিট কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক একসঙ্গে তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করে বেরিয়ে আসেন। এরপর তারা একটি মিছিল গঠন করে শিবু মার্কেট এলাকা থেকে লিংক রোড হয়ে জাল কুড়ির দিকে অগ্রসর হতে থাকেন।

শ্রমিকেরা যখন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখন পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তবে শ্রমিকেরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মূল সড়কে অবস্থান নেন। এর ফলে বেলা ৩টার দিকে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

অবরোধ চলাকালীন এক পর্যায়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকেরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পাশাপাশি সড়কে আগুন জ্বালানো এবং বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন, সংঘর্ষে জেলা পুলিশের তিনজন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ছয়জন সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, একজন শ্রমিক আহত হওয়ার প্রাথমিক খবর পাওয়া গেলেও তাঁর নাম-পরিচয় ও আহত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের ধাওয়ায় শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বিকেল ৫টার পর থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে জানান, “শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে প্রথমে তাদের বুঝিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে শ্রমিকেরা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে বিকেলে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার অবরোধ শেষে শ্রমিকেরা সড়ক থেকে সরে গেছেন। বর্তমানে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।”