ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উত্তেজনার এক পর্যায়ে মিরপুর–১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে অবস্থানরত পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং লাঠিপেটা করে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। এরপর ওই এলাকার যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় সকাল আটটার দিকে, যখন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর–১০ নম্বর মোড়ের সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে বেলা সোয়া ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে একপর্যায়ে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের ধাওয়া দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জলকামান থেকে পানি ছোড়া হয় এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করা হয়। এতে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের তীব্রতায় মেট্রোরেলের পানির লাইন পুড়ে যায়। ঘটনার পর থেকে স্টেশনের পূর্ব পাশের একটি গেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

মেট্রোরেল স্টেশনের নিরাপত্তাকর্মী খালিদ হাসান বলেন, “আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে মিরপুর–১০, মিরপুর–১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়।”

পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. হানিফ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বেলা একটার দিকে আন্দোলনকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন। পরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।”

এর আগে মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মিরপুরের কয়েকটি স্থান থেকে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে জড়ো হয়ে মিরপুর–১০ নম্বর মোড় অবরোধ করেন। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।”

উল্লেখ্য যে, একই দাবিতে গতকাল শনিবারও মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাক শ্রমিকেরা। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর–১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।