ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ শনিবার ঢাকার মিরপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির এক পর্যায়ে স্থানীয় কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকদের এই আকস্মিক সড়ক অবরোধের ফলে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে শ্রমিকেরা মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। সেখানে তারা বেশ কিছু মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুর চালান। এ সময় কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, হাতাহাতি এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া কালশী এলাকায় অবস্থিত একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে শ্রমিকদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। ধীরে ধীরে মিরপুর ১১, ১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এর ফলে ওইসব এলাকায় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।

দুপুরের দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে সরে এসে শাহ আলী এলাকায় একত্রিত হন। বেলা ২টার পর শাহ আলী থানার আওতাধীন এলাকায় পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের রক্তচক্ষু ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা ওই কারখানাটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং পাশাপাশি একটি বিপণিবিতানেও ভাঙচুর চালানো হয়।

বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার অধীনে কালশীর আদর্শনগর এলাকায় অবস্থিত একটি ২২ তলা পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

ঘটনার বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, “শ্রমিকেরা ওই কারখানায় গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকেরা পালিয়ে যান।”

অন্যদিকে, মিরপুর ১০ নম্বর এলাকা থেকে শ্রমিকেরা সরে যাওয়ার পর মিরপুর ১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাছের বলেন, “এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”