ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এই আন্দোলনের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আশপাশের অন্তত ১৮টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা জানান, বর্তমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যে পরিমাণ ওভারটাইমের সুযোগ পাওয়া যেত, এখন আর তেমন সুযোগ নেই। অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়লেও তাদের বেতন অপরিবর্তিত রয়েছে। এই কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার দুপুরে টিফিনের বিরতির পর কাজে না ফিরে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এরপর তারা রাস্তার ওপর ময়লা-আবর্জনার বস্তা ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকেরাও এই বিক্ষোভে যোগ দেন। এর ফলে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৮ থেকে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়েই থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। বেলা ২টা থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন শ্রমিকেরা। তারা চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ি এলাকার বিভিন্ন অংশে অবস্থান নিয়েছিলেন। এসময় কয়েকটি স্থানে দফায় দফায় পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, “পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে। মানুষের জানমালের ক্ষতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে হবে৷”
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কালিয়াকৈরের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।”
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। এতে চন্দ্রা হতে কোনাবাড়ি পর্যন্ত ১৮টি কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে।”