গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় দিকেই যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বেলা সোয়া একটার সময় পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।

পুলিশ ও শ্রমিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের আকলিচালা এলাকায় অবস্থিত এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার সামনে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরবর্তীতে তাঁরা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান গ্রহণ করেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীরা আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি কারখানার ফটকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শান্তি বজায় রাখতে এলাকার ১৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান নিয়ে মহাসড়কটি অবরোধ করেন। এর ফলে মহাসড়কের দুই প্রান্তেই যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকের মূল্য বাড়েনি। আমাদের বেতন বাড়াতে হবে, না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

অন্যদিকে, শ্রমিক কারিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘বর্তমানে যে বেতন পাচ্ছি, তা দিয়ে সংসার চলছে না। খুবই হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি, তারপরও টানাটানি করে চলতে হয়। তাই বেতন বাড়ানোর দাবিতেই আমরা সড়কে নেমেছি।’

এই ঘটনার বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কোনাবাড়ী এলাকায় বাসে আটকা পড়া যাত্রী সাইফুল ইসলাম তাঁর কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসে আটকা পড়ে আছি। কোনো দিকেই যানবাহন চলছে না। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম, তার ওপর যানজটে একেবারে নাজেহাল অবস্থা।’

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, শিল্প পুলিশের সদস্যরা বর্তমানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। তিনি আরও জানান, পুলিশ শ্রমিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।