গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন ও ভাতা বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে মৌচাক, সফিপুর এবং কোনাবাড়ী এলাকার অন্তত ১৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে প্রথম বিক্ষোভ শুরু করেন। এই আন্দোলনের ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের অন্যান্য কারখানায়। যখন ওইসব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়, তখন সেই শ্রমিকরাও এই বিক্ষোভে যোগ দিয়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করেন।

পুলিশ ও শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যানুসারে, সকালে এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেডের শ্রমিকেরা প্রথমে কারখানার সামনেই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া সড়কে অবস্থান নেন। এসময় তারা আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি দেওয়ার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন। উত্তেজনার এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি কারখানার ফটকে ইট ও পাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। এরপর শ্রমিকেরা টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় অবস্থান নেন। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকেরা লাঠি হাতে বিভিন্ন কারখানার সামনে অবস্থান নেওয়ায় মৌচাক, সফিপুর ও কোনাবাড়ী এলাকার অন্তত ১৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এই বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, “মঙ্গলবার সকালে কালিয়াকৈরের এসেনশিয়াল গার্মেন্টসে শ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে আশপাশের ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। এসব কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান করছেন। তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিতে শিল্প পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।”