অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ব্যাট হাতে ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটার সোবহানা মোস্তারি। ব্রিসবেনে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১৮ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দেশের নারী ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। সেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে এবার আইসিসির অক্টোবর মাসের সেরা নারী ক্রিকেটারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন সোবহানা। তবে এই সম্মানজনক পুরস্কারটি জিততে হলে তাকে পেছনে ফেলতে হবে ভারতের তারকা ক্রিকেটার দীপ্তি শর্মা ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডকে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতেও আইসিসির মাসসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন সোবহানা। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ এখন তার সামনে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) অক্টোবর মাসের সেরা ক্রিকেটারদের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। নারী ও পুরুষ—উভয় বিভাগেই তিনজন করে ক্রিকেটারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নারীদের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন সোবহানা। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ভারতের অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা এবং অস্ট্রেলিয়ার অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড।

অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ নারী দল। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে সিরিজের সামগ্রিক ফলাফল বাংলাদেশের অনুকূলে না গেলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আলো ছড়িয়েছিলেন সোবহানা। বিশেষ করে ব্রিসবেনে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার ব্যাট থেকে এসেছিল এক স্মরণীয় সেঞ্চুরি।

গত ১১ অক্টোবর অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে ১৩৪ বলে ১১৮ রানের ইনিংস খেলেন সোবহানা। ১৮টি চার মারার মাধ্যমে সাজানো সেই ইনিংসটি বাংলাদেশের নারী ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নতুন রেকর্ড হিসেবে গণ্য হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে ভারতের বিপক্ষে ফারজানা হকের ১০৭ রানের রেকর্ডটি ছিল সর্বোচ্চ।

কেবল রেকর্ডই নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন সোবহানা। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম শতকটিকেই তিনি এভাবে স্মরণীয় করে রাখলেন। এছাড়া বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি।

দলীয় ব্যর্থতার মাঝেও সোবহানার এই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স আইসিসির নজর কেড়েছে। তিন ম্যাচের সিরিজে তিনি ৪৩ গড়ে মোট ১২৯ রান সংগ্রহ করেন, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৭৩.৭১। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন ঐতিহাসিক ইনিংসই তাকে অক্টোবরের মাসসেরার দৌড়ে নিয়ে এসেছে।

আইসিসির মাসসেরার মনোনয়ন পাওয়া সোবহানার জন্য নতুন কিছু নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে মাসসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। সেই আসরে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বকাপের বৈশ্বিক বাছাইপর্বের প্রথম ছয় ম্যাচে ৪৫.৮০ গড়ে মোট ২২৯ রান করেছিলেন সোবহানা। সেই সিরিজে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪৫.৮৫। এছাড়া থাইল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি।

তবে এবার তার সামনে বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে। ভারতের দীপ্তি শর্মা অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট ও বল—উভয় বিভাগেই অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন।

ওয়ানডে সিরিজে ব্যাটিংয়ের একমাত্র সুযোগে অপরাজিত ১০৬ রান করেন দীপ্তি। ভাদোদরায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার এই সেঞ্চুরির পাশাপাশি তিন উইকেট নেওয়ার সুবাদে ভারত ১২১ রানে জয়লাভ করে। তিন ম্যাচের সিরিজে এই অফ স্পিনার মোট পাঁচ উইকেট নেন এবং তার ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৩.৪২।

টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ব্যাট হাতে ৩৭ বলে ৪৯ রান করেন দীপ্তি এবং বল হাতে আরও দুই উইকেট নেন। তার এই অলরাউন্ড নৈপুণ্যের ওপর ভর করে দুই সংস্করণেই জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত করে ভারত।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিন ম্যাচে ৯৯ রান করার পাশাপাশি তিনি নিয়েছেন ছয় উইকেট। পুরো সিরিজে তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩২ এবং বোলিং ইকোনমি ছিল ৪.১২।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩০ রানে চার উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৫ রান করেন সাদারল্যান্ড। শেষ ম্যাচে অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংসের পাশাপাশি আরও দুই উইকেট নেন এই অলরাউন্ডার। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও একটি উইকেট ও ১৯ রান করেন তিনি।

এদিকে পুরুষ ক্রিকেটারদের মাসসেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেন, পাকিস্তানের আরাফাত মিনহাস এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ।