ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসদরের দক্ষিণ কামারগ্রাম ঋষিপাড়ায় ঋণের বোঝা ও পারিবারিক অশান্তির মুখে গোবিন্দ বিশ্বাস (২৮) নামে এক যুবক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ৬ লাখ টাকার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারা এবং এর ফলে সৃষ্ট পারিবারিক কলহের জেরে তিনি বিষপান করেন বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত গোবিন্দ বিশ্বাস ওই গ্রামের resident পরিমল বিশ্বাসের একমাত্র পুত্র। তার সংসারে একজন কন্যাসন্তান রয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, প্রায় তিন বছর আগে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন গোবিন্দ। সেখানে কিছুকাল কাজ করলেও তার আকামার বা কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে প্রায় দেড় বছর পর মালয়েশিয়া পুলিশের কাছে ধরা দিয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফেরার পর জীবিকা নির্বাহের তাগিদে একটি সেলুনে কাজ শুরু করেন গোবিন্দ। তবে বিদেশ যাত্রার জন্য নেওয়া ঋণের বোঝা তাকে তাড়া করে ফিরেছিল।
জানা গেছে, দুটি ভিন্ন এনজিও থেকে তিনি মোট ৬ লক্ষাধিক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেলুনের সীমিত আয়ের মাধ্যমে এনজিওর বিপুল অঙ্কের সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা জোগাড় করা তার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিস্তি পরিশোধের তীব্র মানসিক চাপ এবং আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া ও কলহ লেগে থাকত। এই চরম মানসিক বিপর্যয়ের মুখে গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বিষপান করেন গোবিন্দ।
ঘটনার পরপরই তাকে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ঋণের চাপ ও পারিবারিক কলহের জেরে এক যুবকের বিষপানে আত্মহত্যার খবর পেয়েছি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”