ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির দায়ে মো. মান্না শেখ নামের এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহকোষাধ্যক্ষ এবং প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের পুত্র। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ওই কক্ষ থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যান, লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে জানাজানি হয়নি; পরদিন শনিবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি লক্ষ্য করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভবনটিতে কোনো নৈশপ্রহরী নিযুক্ত না থাকায় চুরির ঘটনাটি সাথে সাথে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মালামাল নিয়ে কক্ষ থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশই চুরির ঘটনায় মান্না শেখকে শনাক্ত করে।

এই চুরির ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর মান্না শেখ আত্মগোপন করলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর মান্না শেখের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর তাকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। দণ্ডাদেশ কার্যকর করার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত সাজা প্রদান করেন।