বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে নতুন করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, টঙ্গীর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আজ বৃহস্পতিবার আদালত বরাবর শাহরিয়ার রেজা দীপকে তৃতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, পূর্বের দুই দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপ এই ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদান করেছেন।
আবেদনে নতুন করে রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলা হয়, শাহরিয়ার রেজা দীপ মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে আসামি জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নীরব থেকেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ও আসামিদের চলাফেরা, আহার এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনার পর দেখা গেছে যে, মৃত্যুর আগে তাহসিফ সাউরির সঙ্গে শেষ সময়ে দীপ এবং এক তরুণী ছিলেন। আবেদনে বলা হয়, “তাঁরা কোনো না কোনোভাবে এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।” মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দীপকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। কারণ, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন এবং এতে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে জানানো হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর আনুমানিক সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এম তাহসিফ সাউরিকে (২৭) বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ (২৩)। এরপর তাঁরা দুজন এবং ওই তরুণী একসঙ্গে গ্যারেজে গিয়ে মোটরসাইকেলের কাজ করান। ওইদিন সন্ধ্যায় তাঁরা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে যান এবং রাতে উত্তরায় একটি রেস্তোরাঁয় বিয়ার পান করেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী বাসায় ফিরে যান। পরবর্তীতে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সাউরি ও দীপ টঙ্গী মাজার বস্তিতে পৌঁছান। সেখান থেকে তাঁরা মাজার বস্তির ভেতর দিয়ে তুরাগ নদের তীরবর্তী একটি মাঠে যান। সেখানে কিছু লোকজনকে দেখে তাঁরা দুজন আলাদা হয়ে যান।
আদালতে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করে দীপের আইনজীবী দাবি করেন, ভুক্তভোগীর মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর মক্কেলের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি এই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাই বারবার তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি যুক্তি দেখান।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে জানান, এই ঘটনার সঙ্গে আসামি দীপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তবে তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) যখন পালিয়ে যান, তাহসিফ সাউরি সেই ভিডিও দুপুর ১২টার পরেই প্রচার করেন; যে কারণে মানুষ জানতে পারে স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়েছেন। তিনি যদি ভিডিও না করতেন, হাসিনার এই পালানোর দৃশ্য অজানা থাকত।” এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ইন্ধন বা রহস্য জড়িত আছে কি না, তা উন্মোচন এবং হত্যার প্রকৃত কারণ জানার জন্য দীপকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি বলেন।
শুনানি শেষে আদালত তাহসিফ সাউরির ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।