বরগুনার পাথরঘাটায় বর্তমানে বসবাস করছেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল রশিদ। বয়সের কারণে তিনি এখন আর আগের মতো স্বাবলম্বী নন, চলাফেরার জন্য তাকে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তার স্মৃতিশক্তি এখনও অত্যন্ত প্রখর। শিক্ষকতা জীবনের অসংখ্য স্মৃতি তার মনে গেঁথে আছে, যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল রশিদ স্মৃতিচারণ করে জানান, ১৯৭২ সালে তিনি যখন কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করছিলেন, তখন তার ছাত্র ছিলেন ছোট্ট তারেক রহমান। তার দাবি, মাত্র পাঁচ-ছয় বছর বয়সে তারেক রহমানের হাতেখড়ি হয়েছিল তার হাতেই। সেই সময়ে পরিবারের সদস্যরা তারেক রহমানকে আদর করে ‘পিনু’ নামে সম্বোধন করতেন।
সম্প্রতি পাথরঘাটা পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত নিজ বাসভবনে বসে সেই পুরনো দিনগুলোর কথা মনে করেন অধ্যক্ষ কাজী আব্দুল রশিদ। তিনি বলেন, “পিনু খুব বুদ্ধিমান ছিলেন।” তারেক রহমানের শৈশবের অনেক ঘটনা এখনও তার মনে স্পষ্টভাবে গেঁথে আছে। তবে এত দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পর তারেক রহমানের স্মৃতিতে এই ঘটনাগুলো আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
কেবল তারেক রহমানই নন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এই শিক্ষকের কিছু স্মৃতি। অধ্যক্ষ আব্দুল রশিদ জানান, জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। একবার তিনি তার বাসায় এসেছিলেন। সেই সময় তাকে রসগোল্লা, বিস্কুট ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছিল। খাওয়ার সময় জিয়াউর রহমান তাকে বলেছিলেন, “মিষ্টি না হলেও চলত।”
শিক্ষক আরও জানান, ১৯৭৮ সালে তারেক রহমানের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তিনি জিয়াউর রহমানের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সেই মুহূর্তগুলো তার স্মৃতিতে এখনও অম্লান হয়ে আছে।
তারেক রহমানের হাতেখড়ি, শৈশবের ডাকনাম পিনু, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বাসায় আপ্যায়ন এবং তারেক রহমানের খোঁজখবর জানতে চেয়ে চিঠি লেখার মতো বিস্তারিত স্মৃতিগুলো তিনি তার লেখা ‘স্মৃতিতে ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজ ১৯৬৭ থেকে ১৯৮০’ বইটিতে লিপিবদ্ধ করেছেন।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে দেশের বিভিন্ন নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যক্ষ আব্দুল রশিদ। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তার ছাত্র ছিলেন।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার কোনো চাওয়া আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগতভাবে কিছুই চাওয়ার নেই। আমি শুধু দোয়া করি, সে যেন দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে। আল্লাহ যেন তাকে ঠিকমতো কাজ করার তৌফিক দেন।”