জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আমির হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আদালতের হাজতখানা থেকে কাঠগড়ায় আনা হয়। সে সময় তাঁর মাথায় হেলমেট, হাতে হাতকড়া এবং গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় আসার পর পুলিশ তাঁর হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং এক হাতের হাতকড়া খুলে দেয়। এই সুযোগে তিনি তাঁর আইনজীবী এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সাথে কথা বলেন। এরপর বিকেল চারটা এক মিনিটে বিচারক এজলাসকক্ষে প্রবেশ করেন।
আদালতে শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব রাগীব বলেন, “মাননীয় আদালত আমরা আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করিনি। তিনি একজন সাংবাদিক। বয়স্ক ব্যক্তি। শারীরিক অসুস্থতা ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা কারাগারে সুব্যবস্থা (ডিভিশন)র আবেদন জানাচ্ছি।”
এর বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী যুক্তি দেখিয়ে বলেন, আসামি সোবহান চৌধুরী ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম দোসর ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করে তথ্য উপদেষ্টা পদসহ নানা সুবিধা বাগিয়ে নেন এবং এই পদ ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা ও বিভিন্ন টিভির লাইসেন্স বাণিজ্য করেন। জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় সরাসরি বিরোধিতা করে শেখ হাসিনার পক্ষে বয়ান তৈরি করেছেন। তাঁর জন্য কারাগারে ডিভিশন প্রদানের কোনো কারণ নেই। তিনি কোনো মন্ত্রী এমপি না যে তিনি ডিভিশন পাবেন।
রাষ্ট্রপক্ষের এই যুক্তির পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পুনরায় ডিভিশনের জন্য আবেদন জানান। তবে বিচারক তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, “জেল কোড অনুযায়ী উনি যে সুবিধার প্রাপ্যতা রাখেন তিনি সেটাই পাবেন। এটি আমি লিখে দেব।”
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ডিবিসি কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও পুলিশ সাথে করে নিয়ে গেলেও পরবর্তীতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ১৮ বছর বয়সী তরুণ মোহাম্মদ আরিফ হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। দ্রুত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আরিফের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফ ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ মোট ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন, উক্ত মামলায় ৫৩ নম্বর আসামি হিসেবে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।