টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি-র মহাখালীর কার্যালয় থেকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক আটক বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মধ্যরাতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে একই সময়ে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে জুলাইয়ের একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বুধবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কিছু না পাওয়ায় রাজীব ঘোষকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছিলেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম। সে সময় তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেছিলেন, “ইকবাল সোবহান চৌধুরী বিকেলে অফিসে যাওয়ার পর একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। সেখান থেকে আরও একজনকে আনা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলছেন।”
ডিবিসি নিউজ সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ইকবাল সোবহান চৌধুরী এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তিনি মাঝেমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটিতে যাতায়াত করতেন। বুধবার দুপুরে তিনি অফিসে এসে পুনরায় নিজেকে ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করেন। বেলা তিনটার দিকে তিনি যখন কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান, তখন ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাঁকে আটক করে নিয়ে যান। সেই সময়ে রাজীব ঘোষকেও ডিবি পুলিশ সাথে করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার বিষয়ে ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট সম্পাদক মুক্তাদীর অনিক রাতে মুক্তকণ্ঠকে জানান, ইকবাল সোবহান চৌধুরী যখন অফিসে এসেছিলেন, তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। বেলা দুইটার দিকে তিনি যখন অফিসে পৌঁছান, তখন দেখেন যে ইকবাল সোবহানকে ডিবির গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।
রাজীব ঘোষকে নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে মুক্তাদীর অনিক আরও বলেন, তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় ডিবি পুলিশের সদস্যরা জানান তাঁর সঙ্গে চা খাওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে। অন্য কিছু নয়। তাঁকেও কার্যালয় সংলগ্ন রাস্তা থেকেই নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইনের খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর আটকের বিষয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “যদি তিনি আটক হয়ে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।”