মেহেরপুর সদর উপজেলায় এক বিশেষ অভিযানে খাটের বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এই ঘটনায় আবদুস সালাম (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পৌনে ৯টার মধ্যে মেহেরপুর সদর উপজেলার গোপালপুর বসন্তপুর এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত মাদক ও নগদ টাকাসহ মোট আলামতের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৬ হাজার টাকা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোপালপুর বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুস সালামের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় ঘরের একটি কক্ষে খাটের বিছানার নিচ থেকে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ পাওয়া যায়। ওই ব্যাগের ভেতরে সাদা রঙের ছোট প্লাস্টিকের কৌটায় ১১ দশমিক ৫ গ্রাম ওজনের ১১৫ পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই ব্যাগে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত নগদ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তারকৃত আবদুস সালাম ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। এই ঘটনায় মামলার আসামি হিসেবে আলাউদ্দিন (২৫) নামের আরও একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মিশ্রিদেয়াড়া গ্রামের রহিমের ছেলে এবং বর্তমানে মেহেরপুর আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারে রংমিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে অভিযানের সময় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মেহেরপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রহমত আলী বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মেহেরপুর সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।

মেহেরপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাসেল আহমেদ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোপালপুর বসন্তপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”