শ্রমিকদের শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমানে যে বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হচ্ছে তা সাধারণ শ্রমিকদের কাজ নয়; বরং একটি বিশেষ গোষ্ঠী শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আশুলিয়া ও সাভার এলাকা থেকে ইতিমধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ায় অবস্থিত ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ডিইপিজেড) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য প্রদান করেন। ওই সময়ে তাঁর সঙ্গে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা পোশাকশ্রমিক নন, তারা বহিরাগত। শ্রমিকদের আবেগকে পুঁজি করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছিল তারা। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আটটি মামলা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ (শূন্য সহনশীলতা)।”
শিল্পাঞ্চলের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে কারখানার কাজ পুরোদমে চলছে। আশুলিয়ার গুটিকয়েক কারখানা বাদে বাকি সব কারখানা এবং ডিইপিজেডের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানার অভ্যন্তরে ও বাইরে, মহাসড়ক এবং শ্রমিকদের আবাসস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
ডিআইজি আরও জানান, ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এর প্রথম বৈঠকও সম্পন্ন হয়েছে। সরকার শ্রমিকবান্ধব হওয়ায় সংকট সমাধানে কোনো ঘাটতি নেই বলে তিনি দাবি করেন। শ্রমিকদের নির্ভয়ে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, “আবাসস্থলে গিয়ে যারা শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”