সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত ডেকো গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে কর্মরত থাকা অবস্থায় সুমি আক্তার ওরফে মিশু (২৭) নামের এক নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। কারখানার সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজে দেখা গেছে, মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে ওই নারী শ্রমিকের সঙ্গে এক পুরুষ কর্মকর্তার মধ্যে অত্যন্ত উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে সুমি তার মেশিনে কাজ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে এক পুরুষ কর্মকর্তা তার দিকে এগিয়ে আসেন এবং মেশিনে আঘাত করার পাশাপাশি সুমির হাত থেকে কাপড় ফেলে দেন। এই ঘটনার কিছু সময় পর মেশিনে বসাবস্থায় সুমি হঠাৎ করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে কারখানার চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পরবর্তীতে আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে কারখানার ভেতরে কর্মরত থাকাকালীন সুমি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে যে, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েই তার এই মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের স্বামী সাজ্জাদ জানান, কারখানার এক সহকর্মী ফোন করে তাকে সুমির অসুস্থতার কথা জানান। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত কারখানার ফটকে পৌঁছালে তাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও অন্যদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ভেতরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, সুমিকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে এবং চার-পাঁচজন ব্যক্তি তার হাত-পা চেপে ধরে আছেন। এরপর তাকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাজ্জাদের দাবি, এর আগে তার স্ত্রীর কোনো অসুস্থতার ইতিহাস ছিল না।
হাসপাতালে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, সুমি আক্তারের মৃত্যুর পর তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম চলমান।