ইউরোপীয় ফুটবলে কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের অধীনে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো এখন কোন উচ্চতায় পৌঁছাবে, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে এবার প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী এই ক্লাবটি প্রথম চারটি ম্যাচ শেষে গোলের হিসেবে পৌঁছে গেছে অনন্য উচ্চতায়। বর্তমানে গোলের হিসেবে কেবল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি-র পেছনেই রয়েছে তারা। এই চারটি ম্যাচে ৩ জয় এবং ১ হারের পথে মোট ১৯টি গোল করেছে কোমো, আর হজম করেছে ৬টি গোল। ফলে তাদের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে +১৩। অন্যদিকে, ৪ ম্যাচে ২০টি গোল করা পিএসজি কেবল গোল ব্যবধানে (+১৫) কোমোর চেয়ে এগিয়ে। গতকাল রাতে নিজেদের মাঠে ফরাসি ক্লাব লেঁসকে ৯–১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ফ্যাব্রেগাসের শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে সিরি আ পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা কোমো বেশ কিছু নতুন রেকর্ড গড়েছে। গতকাল রাতের ম্যাচসহ অন্যান্য ম্যাচের কিছু উল্লেখযোগ্য কীর্তি ও মাইলফলক নিচে তুলে ধরা হলো:
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডে এবার ভাগ বসাল কোমো। এর আগে ২০০৭ সালে বেসিকতাসকে ৮–০ গোলে হারিয়েছিল লিভারপুল এবং ২০১৫ সালে মালমোকে ৮–০ গোলে পরাজিত করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ।
প্রতিপক্ষের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম দল হিসেবে ৯ গোলের রেকর্ড গড়ল কোমো। এই প্রতিযোগিতার পূর্ববর্তী সংস্করণ ইউরোপিয়ান কাপে সর্বশেষ ১৯৭১ সালে অলিম্পিকায়োসের মাঠে ৯–০ গোলে জিতেছিল ফেইনুর্ড। এছাড়া আরও তিনটি নজির রয়েছে—১৯৬৯ সালে কেআর রিকজাভিকের মাঠে ফেইনুর্ডের ১২–২ গোলের জয়, ১৯৬৬ সালে হাকার মাঠে অ্যান্ডারলেখটের ১০–১ গোলের জয় এবং ১৯৬৮ সালে রেইপাস লাহথির মাঠে স্পার্তাক ত্রনাভার ৯-১ গোলের জয়।
বায়ার্ন মিউনিখের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে এক ম্যাচে ৯ গোল করা দ্বিতীয় দল হিসেবে নাম লিখাল ইতালিয়ান ক্লাব কোমো। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দিনামো জাগরেবকে ৯–২ গোলে হারিয়েছিল বায়ার্ন। এছাড়া ইতালির প্রথম ক্লাব হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে এক ম্যাচে ৯ গোলের এই কীর্তি গড়ল কোমো।
কোমোর হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন গ্রিক স্ট্রাইকার তাসোস দুভিকাস। এর মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে তৃতীয় গ্রিক খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এছাড়া ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার প্রথম চার ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৯ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসাল কোমো, যা এর আগে ১৯৭৬ সালে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স অর্জন করেছিল।
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে তাঁর ১০২তম ম্যাচে ১০০ গোলের (৭৪ গোল, ২৬ অ্যাসিস্ট) মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। লিওনেল মেসি ১০১টি ম্যাচ খেলে এই মাইলফলক অর্জন করায় এমবাপ্পের চেয়ে এক ম্যাচ এগিয়ে থাকেন তিনি।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির আগ পর্যন্ত ৯০ মিনিট বা তার বেশি সময় খেলে প্রতিপক্ষের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদ কোনো জয় পায়নি। তবে পরবর্তী ২১ মাসে রিয়াল এভাবে মোট চারবার জিতেছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এভাবে এতগুলো ম্যাচ জেতার নজির আর নেই।
অন্যদিকে, তুর্কি ক্লাবগুলোর মাঠে ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগের ছয়টি ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি লিভারপুল। এর মধ্যে পাঁচটিতেই তাদের পরাজয় হয়েছে, যার মধ্যে শেষ চারটি ম্যাচ ছিল হার। তবে নির্দিষ্ট কোনো দেশের দলগুলোর মাঠে টানা পাঁচ ম্যাচ হারার রেকর্ড লিভারপুলের নেই।
আর্সেনালের কাছে হেরে ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দীর্ঘতম জয়হীন থাকার রেকর্ডে (২৩ ম্যাচ—ড্র ৮, হার ১৫) ভাগ বসাল স্লাভিয়া প্রাগ। ১৯৮৯ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে এএকে অ্যাথেন্স এবং ২০০৬ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এফসিএসবি এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক ছিল।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে শীর্ষ পাঁচ লিগের প্রথম দল হিসেবে এক ম্যাচে ৯ গোল হজম করার লজ্জাজনক রেকর্ড গড়ল লেঁস।
সবশেষে, লাইপজিগ (১১) ও ম্যানচেস্টার সিটির (২৪) মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগের ৭টি ম্যাচে মোট ৩৫টি গোল হয়েছে। প্রতি ম্যাচে গড়ে ৫ গোলের এই রেকর্ডটি এই প্রতিযোগিতায় ন্যূনতম ৫ বার মুখোমুখি হওয়া দুই দলের লড়াইয়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।