সুন্দরবনের বুক চিরে দিনরাত বয়ে চলা জাহাজের কালো ধোঁয়া, তেলদূষণ আর পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বর্জ্যে মারাত্মকভাবে বিপন্ন হচ্ছে এই ম্যানগ্রোভ বন। একদিকে আন্তর্জাতিক নৌপথের বাণিজ্যিক জাহাজ ও পর্যটনের আড়ালে চলা অনিয়ন্ত্রিত নৌযান, অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত নজরদারির অভাব, সব মিলিয়ে এক গভীর শঙ্কার মুখে বনের জীববৈচিত্র্য। আইন আর প্রযুক্তির কথা বলা হলেও সুন্দরবনের পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জায়গাটিতে রয়ে গেছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড, ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণী, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, আট প্রজাতির উভচর, ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী ও ৩২০ প্রজাতির পাখি। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্বঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়। ১৮৭৮ সাল থেকে সুন্দরবন সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষিত। পূর্বানুমতি ছাড়া বনে প্রবেশের সুযোগ নেই। তবে বনের ভেতর দিয়ে চলাচলকারী নৌযানের কার্যক্রম ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বন বিভাগের নেই। আন্তর্জাতিক নৌপথ সংশ্লিষ্ট আইন ও চুক্তির আওতায় পরিচালিত হওয়ায় এ ক্ষেত্রে একাধিক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবন সংলগ্ন নৌপথের মধ্যে রয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পশুর নদীর চ্যানেল এবং ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যের ঢাকা-কলকাতা নৌপথ। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। বঙ্গোপসাগর থেকে বন্দরে আসা-যাওয়ার জন্য জাহাজকে সুন্দরবনসংলগ্ন প্রায় ১৩১ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক নৌপথে ভারতগামী নৌযানও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে চলাচল করে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, “আগে শ্যালা নদী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। নদীটি ডলফিনের অভয়ারণ্য হওয়ায় জাহাজ চলাচলের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে তেলবাহী একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় বনের জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়।”

তিনি বলেন, সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে জাহাজগুলোকে বনের বাইরে সমুদ্রপথে চলাচলের জন্য বিকল্প রুটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। জাহাজ চলাচলের কারণে বনের তীর ভাঙন, জ্বালানির ধোঁয়ায় শ্বাসমূলের ওপর প্রভাব এবং রাতে জাহাজের আলোয় বন্যপ্রাণী ও পাখির স্বাভাবিক আবাসস্থলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে শ্যালা নদীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের সুপারিশ করা হয়। পরে বিকল্প নৌপথ চালু করে শ্যালা নদীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এ জেড এম হাছানুর রহমান আরও বলেন, “বর্তমানে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে দুটি আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল করছে। এতে বনের কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষণা শেষ হলে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় করণীয় বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।”

জাহাজ চলাচলের পাশাপাশি পর্যটকবাহী বিলাসবহুল নৌযান থেকে বর্জ্য ফেলার বিষয়টিও সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। খুলনা নদীবন্দরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, “বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার সপ্তাহে তিন দিন পর্যটকবাহী জাহাজ সুন্দরবনে চলাচল করে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক জাহাজ পশুর নদ হয়ে হিরণ পয়েন্ট ও হাড়বাড়িয়া দিয়ে খুলনা, নওয়াপাড়া ও ঢাকার দিকে যায়। এসব নৌযানের চলাচল সুন্দরবনের ওপর প্রভাব ফেলে।”

তিনি বলেন, পর্যটনের ভরা মৌসুমে একটি জাহাজে একসঙ্গে ৩০০ থেকে ৪০০ জন পর্যন্ত পর্যটক যান। তাদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতল, একবার ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ও চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন বর্জ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে। নদীতে প্লাস্টিক না ফেলার বিষয়ে জাহাজমালিকদের সঙ্গে একাধিকবার সভা করা হয়েছে। এতে পর্যটকবাহী লঞ্চমালিকদের মধ্যে যথেষ্ট সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. এস. এম.ফিরোজ বলেন, “পর্যটকবাহী জাহাজের জন্য নির্দিষ্ট আচরণবিধি বা নীতিমালা রয়েছে। গাইডদের কাছে এসব নির্দেশিকা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে মানা হয় না। পর্যটকেরা জাহাজ থেকে প্লাস্টিকের বোতল, ক্যান ও চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন অপচনশীল বর্জ্য নদীতে ফেলেন। এসব বর্জ্য বনের মাটিতে জমা হয়ে মাটিদূষণ ঘটায় এবং মাটির স্বাভাবিক পচনপ্রক্রিয়া ও গাছপালার পুনরুৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”

তিনি বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পর্যটকবাহী জাহাজের শব্দ ও আলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। জাহাজের বিকট হর্ন ও অতিরিক্ত আলো বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ ও আবাসস্থলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এতে প্রাণীরা নিজেদের বিচরণক্ষেত্র ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে পারে এবং নতুন এলাকায় অন্য প্রাণীর সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তেলদূষণের প্রভাব প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফিরোজ বলেন, “সুন্দরবনের গাছপালা ও প্রাণীর প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার অভিযোজনক্ষমতা রয়েছে। তেলের কারণে কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনুকূল পরিস্থিতিতে সেগুলো পুনরুদ্ধার হতে পারে। তবে তেলদূষণের ক্ষতি সব ক্ষেত্রে সাময়িক বা নগণ্য নয়। এর প্রভাব তেলের ধরন, পরিমাণ, অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট বাস্তুতন্ত্রের ওপর নির্ভর করে।” সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় জাহাজের আচরণবিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং শব্দ ও আলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেন তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, “সুন্দরবনের ওপর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক জাহাজ চলাচলের ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। জাহাজ থেকে তেল, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত নজরদারি বা সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। সুন্দরবনের নদীতে কয়লাবোঝাই ট্রলার বা জাহাজডুবির মতো দুর্ঘটনা ঘটলে এর পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণে অধিদপ্তর কার্যক্রম পরিচালনা করে।”

তিনি বলেন, জাহাজ চলাচল মূলত নৌ-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সরাসরি হস্তক্ষেপ সীমিত। সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে যাত্রীদের সচেতন করা ও তদারকির জন্য কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকলেও সুন্দরবনে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি।

অন্যদিকে, জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিজেদের ব্যবস্থাপনার কথা জানিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির উপপরিচালক সালাউদ্দিন কবির বলেন, মোংলা বন্দরে আগমন ও বহির্গমনকারী বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা মাস ও মৌসুমভেদে কম-বেশি হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে না; বাণিজ্যিক জাহাজগুলো মোংলা চ্যানেল ব্যবহার করে। তবে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০টি কোস্টাল ভেসেল ও প্রটোকল জাহাজ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এ ছাড়া দেশীয় নৌযান, লাইটারেজ জাহাজ, বার্জ ও অন্যান্য নৌযানও এ নৌপথে চলাচল করে।

সালাউদ্দিন কবির বলেন, “সুন্দরবন অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিবেশব্যবস্থা। তাই জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ঝুঁকি কমানোকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেয়। জাহাজের চলাচল, নির্ধারিত নৌপথে নেভিগেশন, গতি, নিরাপদ পাইলটেজ ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস), ভিএইচএফ যোগাযোগ, রাডার, এআইএস ও পাইলটেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তেলদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনাজনিত দূষণের ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও পরিবেশগত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, “জাহাজ থেকে নদীতে তেল, তৈলাক্ত পদার্থ বা অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য ফেলা আইন ও আন্তর্জাতিক মারপোল কনভেনশনের পরিপন্থি। কোনো জাহাজ থেকে তেল বা ক্ষতিকর পদার্থ ছড়িয়ে পড়লে কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ করা এবং দূষণ ছড়িয়ে পড়া রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রয়োজনে বন্দর কর্তৃপক্ষের অয়েল স্পিল রেসপন্স টিম, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।” এ কাজে বন্দর কর্তৃপক্ষের ছয়টি বিশেষায়িত জাহাজ ও বহনযোগ্য অয়েল স্পিল রেসপন্স সরঞ্জাম রয়েছে বলে জানান তিনি।

সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) খুলনা জেলা সমন্বয়কারী আইনজীবী মো. বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর আওতায় সুন্দরবনের চারপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলে তেল, সার ও কয়লাবাহী জাহাজের চলাচল বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ আইনে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনেও সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের সময় শব্দ ও অন্যান্য কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজনন ব্যাহত হতে পারে। আবার জাহাজডুবির ঘটনায় তেল, কয়লা বা সার পানিতে মিশে ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বাবুল হাওলাদার বলেন, বিদ্যমান আইনের আওতায় নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সুন্দরবনের জন্য আলাদা নীতিমালা বা আইন করা যেতে পারে। বিকল্প নৌপথ নির্ধারণ, জাহাজের গতি ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং নৌযানের গতিবিধি ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব কি না, তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চলাচলকারী জাহাজের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ, দূষণ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়নই পারে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যানগ্রোভ বনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে।