সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের হারবাড়িয়া সংলগ্ন পশুর নদে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কয়লাবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। গতকাল সোমবার রাতে নদের সুন্দরীর কোঠা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ডুবে যাওয়া ওই কার্গো জাহাজটির নাম এমভি ফুলবাড়ী। জাহাজটিতে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই ছিল। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত জাহাজটি উদ্ধারে কোনো ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।

মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা নিয়ে ঢাকার বাদামতলির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল এমভি ফুলবাড়ী। পথে পশুর চ্যানেলের সুন্দরীর কোঠা এলাকায় পৌঁছালে তেলবাহী ট্যাঙ্কার এমটি জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এই প্রচণ্ড ধাক্কায় এমভি ফুলবাড়ীর তলা ফেটে যায় এবং দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে।

দুর্ঘটনার বিষয়ে এমভি ফুলবাড়ী জাহাজের সুকানি মো. সাকিব কাজী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘হিরণ পয়েন্ট থেকে লোড (কয়লাবোঝাই) করে মোংলার দিকে আসতেছিলাম। তখন রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টা। জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একটি বাঙ্কার (ট্যাঙ্কার) ডাউনে নামতেছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই জাহাজের সঙ্গে আমার জাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে আমার জাহাজের ডেক ফেটে যায় এবং পানি ঢুকতে শুরু করে।’

সুকানি আরও জানান, জাহাজটি কোনোমতে কিনারের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হওয়ার আগেই সেটি ডুবতে শুরু করে। জীবন বাঁচাতে তখন জাহাজের সবাই লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে অন্য একটি জাহাজে আশ্রয় নেন।

এমভি ফুলবাড়ী জাহাজে মোট ৯ জন কর্মী ছিলেন। জান্নাতুল ফেরদৌস ট্যাঙ্কারের লস্কর মো. নয়ন শেখসহ মোট ১০ জনকে রানীয়া-১৩ নামের একটি জাহাজ উদ্ধার করে মোংলায় নিয়ে আসে। উদ্ধারকৃতরা বর্তমানে বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, কয়লা বোঝাই করে জাহাজটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ডুবে যাওয়া জাহাজটি এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে জাহাজটি নদীর কিনারার দিকে ডুবে থাকায় অন্য নৌযান চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, নোঙরের সমস্যার কারণে ট্যাঙ্কারটি সরে মূল চ্যানেলে চলে আসে বলে দাবি করেন জান্নাতুল ফেরদৌসের লস্কর নয়ন শেখ। তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমি সামনে এসে লাইট দিলে সিগন্যাল দিতে দিতে ধাক্কা লেগে যায়। তখন আমি আমাদের জাহাজ থেকে ছিটকে ওই জাহাজে (ফুলবাড়ী) চলে যাই।’

পুরো বিষয়টি নিয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত কার্গো জাহাজটি মূল চ্যানেলের বাইরে ডুবেছে। বন্দর চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ আছে এবং নৌযান চলাচলও স্বাভাবিক। জাহাজটি দ্রুত উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।