রাজধানীর উত্তরায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘিরে ধরে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। পরবর্তীতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। তবে ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আজ বুধবার দুপুরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের পাকার মাথা এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। হেনস্তার শিকার হওয়া ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম অতীশ দর্শী চাকমা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দুপুরে জসিমউদ্দিন সড়কের পাকার মাথা এলাকায় ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিয়ে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা। অভিযোগ করা হয় যে, অভিযান চলাকালীন জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের এক সহযোগী এক দোকানির কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেন। কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী এই অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং দাবি করেন যে, পরবর্তীতে ওই টাকা তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘিরে ধরেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
ঘুষ নেওয়ার এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাঁকে খুদে বার্তাও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেখান থেকেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে এসেছিলেন। ফুটপাতে দোকান থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে জরিমানা করেন তিনি। জরিমানার রসিদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানিদের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রকৃত ঘটনা জানার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসক আরও জানান, অতীশ দর্শী চাকমা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিয়মিত ম্যাজিস্ট্রেট নন। বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ফুটপাত উচ্ছেদসহ বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার জন্য তিন মাসের জন্য ঢাকা উত্তরে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অতীশ দর্শী চাকমা তাঁদের একজন।