তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের অবিলম্বে তাদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকার, মালিক এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, গাজীপুরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় যদি কোনো নিরীহ শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়ে থাকেন, তবে তাদের মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে; তবে কোনো দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
চলতি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গাজীপুরে নিহত শ্রমিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ টাকা অর্থসহায়তা প্রদানের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধার বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন, টঙ্গীতে ১০০ শয্যার একটি শ্রমজীবী বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মজুরি কাঠামোর বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করে তার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রথম বৈঠকটি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।
শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা কারখানায় ফিরে যান। মজুরি নিয়ে কোনো প্রস্তাব থাকলে তা লিখিতভাবে মজুরি বোর্ডে দিন। রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার বা শিল্প ধ্বংস করার কোনো চক্রান্তে কান দেবেন না।”
একই প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, পোশাক খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি ও তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিক প্রতিনিধিরা দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং সাধারণ শ্রমিকদের শান্ত থাকার ও কর্মস্থলে ফেরার অনুরোধ করেন। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তারা মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প এলাকায় যথাযথ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার এবং সরকার, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।