ফুটবল ম্যাচে লাল কার্ড দেখা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এবার ব্রাজিলে যা ঘটেছে, তা ছাড়িয়ে গেছে সব কল্পনা। একটি ম্যাচে বহিষ্কৃত হয়েছেন ৫১ জন! দুই দলের ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ, বাদ যাননি প্রায় কেউই। শেষ মুহূর্তে গোল উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া মারামারি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ম্যাচই শেষ করতে বাধ্য হন রেফারি। সংখ্যার হিসাবে ছাড়িয়ে গেছে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের আগের বিশ্বরেকর্ডও।
গত রোববার (১ নভেম্বর) ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের অনূর্ধ্ব-২০ দ্বিতীয় বিভাগের চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয়েছিল উবারলান্দিয়া ও মামোরে। পার্কে দো সাবিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় পায় মামোরে। তবে ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দুই দলের নজিরবিহীন মারামারি।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো ও ও তেম্পোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচটিতে ৫১ জনকে বহিষ্কার করেছেন রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোসগিচ মোদেস্তো। এর মধ্যে ৪৩ জন ফুটবলার এবং বাকি আটজন দুই দলের কোচিং স্টাফের সদস্য। তবে সিএনএন ব্রাসিল ও ইতাতিয়ায় উবারলান্দিয়ার আরও দুই কর্মকর্তাকে গণনায় এনে মোট বহিষ্কৃতের সংখ্যা ৫৩ উল্লেখ করেছে।
অবিশ্বাস্য এই ঘটনার সূত্রপাত দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে। তখন মামোরে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে সফরকারীদের হয়ে তৃতীয় গোল করেন জোয়াও ভিতোর। সেই গোলের পর উদ্যাপন করতে গিয়ে উবারলান্দিয়ার ডাগআউটের সামনে উত্তেজনাকর অঙ্গভঙ্গি ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন মামোরের ফুটবলার দাভি ফার্নান্দেস বিতেনকুর্ত।
রেফারির ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উবারলান্দিয়ার গোলরক্ষক কোচ পাওলো সের্জিও দিয়াস দোস সান্তোস মাঠে ঢুকে ওই ফুটবলারকে ধাক্কা দেন। এরপরই শুরু হয় হাতাহাতি।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের ফুটবলার ও কোচিং স্টাফরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একে অপরকে ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন তারা। মাঠে স্ট্রেচার ও চেয়ার ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। এমনকি ছয়জন বলবয়ের বিরুদ্ধেও মারামারিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উল্লেখ করেছেন রেফারি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খেলা শেষ ঘোষণা করেন রেফারি। সংঘর্ষ চলাকালে সবাইকে আলাদাভাবে লাল কার্ড দেখানো সম্ভব হয়নি। তাই ম্যাচের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে বহিষ্কারের তথ্য নথিভুক্ত করেন তিনি।
মোট ৫১টি বহিষ্কারের মধ্যে ৪৮টি এসেছে শেষ মুহূর্তের গণসংঘর্ষের কারণে। বাকি তিনজনকে পৃথক ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এর আগেও অবশ্য ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে উবারলান্দিয়ার লুইকে বিসপো দোস সান্তোস লাল কার্ড দেখার পর রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠে ঢুকে পড়েন ক্লাবটির কয়েকজন কর্মকর্তা। রেফারিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
সেই ঘটনায় প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে আবারও খেলা শুরু হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তের সংঘর্ষে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
Meanwhile in Brazil...😳🥊
A Guinness World Record was broken for the number of red cards in a single game, the Minas Gerais Under-20 Championship clash between Uberlândia and Mamoré saw 51 sendings off, including 43 players and eight members of coaching staff 🤯🟥
A mass brawl that began in the 54th minute saw the referee break a record that had stood since 2011 for the most expulsions in a single fixture, according to reports from O Tempo 😭
The referee's report indicated that the chaos wasn't limited to the players. Six ball boys reportedly participated in the aggression, throwing punches, kicks, and objects at players and members of the Mamoré coaching staff
Stretchers and chairs were also used in the fighting that took close to 40 minutes to subside, while local military police were forced to attend to assess the vandalism inside the stadium after the air had cooled 😶🇧🇷 — OneFootball (@OneFootball) November 4, 2026
Meanwhile in Brazil...😳🥊
A Guinness World Record was broken for the number of red cards in a single game, the Minas Gerais Under-20 Championship clash between Uberlândia and Mamoré saw 51 sendings off, including 43 players and eight members of coaching staff 🤯🟥
A mass brawl that began in the 54th minute saw the referee break a record that had stood since 2011 for the most expulsions in a single fixture, according to reports from O Tempo 😭
The referee's report indicated that the chaos wasn't limited to the players. Six ball boys reportedly participated in the aggression, throwing punches, kicks, and objects at players and members of the Mamoré coaching staff
Stretchers and chairs were also used in the fighting that took close to 40 minutes to subside, while local military police were forced to attend to assess the vandalism inside the stadium after the air had cooled 😶🇧🇷
মাঠের মারামারির পর স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমেও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের সামরিক পুলিশ জানিয়েছে, স্টেডিয়ামের প্রায় ১৪টি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বাথরুমের সরঞ্জাম, আসবাব ও দুটি হট টাবও ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এই ঘটনায় ফুটবল ইতিহাসের আগের একটি রেকর্ডও সংখ্যার হিসাবে পেছনে পড়ে গেছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬ জন ফুটবলার বহিষ্কারের স্বীকৃত রেকর্ডটি গড়া হয়েছিল ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি।
সেদিন আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ম্যাচে আতলেতিকো ক্লেপোল ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের মধ্যে ব্যাপক মারামারি হয়েছিল। এরপর দুই দলের মাঠে থাকা ও বদলি মিলিয়ে ১৮ জন করে মোট ৩৬ ফুটবলারকে বহিষ্কার করেন রেফারি দামিয়ান রুবিনো।
প্রায় ১৫ বছর পর সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ব্রাজিলের ঘটনাটি। তবে নতুন এই ঘটনাকে গিনেস কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি দেয়নি।
এদিকে আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে আবারও মুখোমুখি হওয়ার কথা উবারলান্দিয়া ও মামোরের। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক ফুটবলার বহিষ্কৃত হওয়ায় সেই ম্যাচে কারা খেলতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।