গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার এক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বিশেষ র্যাব ব্যাটালিয়ন-১১ (এসআরবি-১১)। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আবু মোকারম (৪৪)। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
আজ বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত এসআরবি-১১ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
গ্রেপ্তার হওয়া আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর বরকল এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁর পিতার নাম আবু তালেব। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ–অভ্যুত্থানের পর কারাগারের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তিনি পালিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, “আবু মোকারম ২০০৯ সালের নভেম্বরে চন্দনাইশ থানায় করা একটি হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন। ওই মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ১৯ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই বছরের ৯ জুলাই থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।”
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে কারাগারের বন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গাহাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন। সেই বিশৃঙ্খলার একপর্যায়ে বন্দীরা কারারক্ষীদের জিম্মি করে এবং মই ব্যবহার করে কারাগারের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়া সেই বন্দীদের তালিকায় আবু মোকারমও ছিলেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
এসআরবি-১১-এর দাবি অনুযায়ী, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আবু মোকারম বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করেন। নিজের পরিচয় গোপন রেখে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে আত্মগোপন করে ছিলেন। তবে গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।