নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলোচিত ‘কোবরা গ্রুপ’ ও ‘সোহেল গ্রুপের’ প্রধান হিসেবে পরিচিত সোহেল খন্দকারকে বিদেশি রিভলবার, গুলি ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১। একই ব্যাটালিয়ন কুমিল্লায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইজিবাইকচালক ইকরামুল হককেও গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে এসআরবি-১১ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার মিশনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল খন্দকারকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেলের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, পাঁচটি গুলি ও ১০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। হেরোইনগুলো ৭০টি পুরিয়ায় ভাগ করা ছিল।
এসআরবি-১১-এর দাবি, সোহেল দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট, লামাপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে তিনি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় পোশাক কারখানা, ব্যবসায়ী ও ঝুটের গুদামের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেলে হামলা, ভাঙচুর ও ঝুট লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ ১৫টির বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সহিংসতা ও হত্যা চেষ্টার মামলাতেও তিনি আসামি।
অন্যদিকে, কুমিল্লায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইজিবাইকচালক ইকরামুল হককে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১। রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যুক্তিখোলা এলাকায় তার বোনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইকরামুল কুমিল্লার লালবাগ এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।
এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ পারভেজ জানান, ধর্ষণের অভিযোগে ইকরামুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযোগের শিকার নারীকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।