নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সাহেব আলী (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে। আজ সোমবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের বউবাজার এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশি তথ্যানুসারে, নিহত সাহেব আলীর বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর আটি ওয়াপদা এলাকায়। তিনি এসআরবি-১১ এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ ডাকাত সরদার ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ অন্তত ২০টি মামলা দায়ের করা রয়েছে। অতীতে তাঁকে এবং তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে র্যাব ও পুলিশের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন সাহেব আলী। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিজের সহযোগীদের ছোড়া গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বউবাজার এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে মারামারি চলছিল। সেই লড়াইয়ের এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাহেব আলী পাশের একটি খালে পড়ে যান। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়া হয়। ভিডিওতে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আরও একজনকে অস্ত্র হাতে দেখা যায়। হামলাকারীরা গুলি ছোড়ার পর খালের পানিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজনকে দেখা গেছে, যাদের মধ্যে কেউ কেউ খালে পড়ে যাওয়া সাহেব আলীকে খোঁজার চেষ্টা করছিলেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সোমবার বিকেলে বউবাজার এলাকায় দুই ব্যক্তি এসে সাহেব আলীকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়েন। পরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
ওসি এমদাদুল হক আরও জানান, “সাহেব আলী এসআরবি-১১ ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ডাকাত সরদার ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা–ডাকাতিসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। সহযোগীদের গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কারা তাঁকে গুলি করেছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে দুই অস্ত্রধারীর নাম শোনা গেলেও যাচাই-বাছাই ছাড়া তাঁদের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।”