বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম দাবি করেছেন যে, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত কর্মীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যম হওয়া উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেবল যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা।” তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুনরায় দলীয়করণের চেষ্টা চলছে।
রাষ্ট্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।” এর পাশাপাশি তিনি ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি চালুর দাবি জানান।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ছাত্রশিবির এই সংবাদ সম্মেলনে মোট ১৩ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব সম্পূর্ণ বন্ধ করা, পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করা, প্রার্থীর বিষয়ে কোনো নেতিবাচক তথ্য থাকলে তাকে লিখিতভাবে জানানো এবং সেই বিষয়ে আপিল করার সুযোগ রাখা।
এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ভাইভার জন্য একটি অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা, মৌখিক পরীক্ষার অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং প্রশ্নফাঁস ও প্রক্সি রোধে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের দাবি জানানো হয়েছে।
শিবির সভাপতি সতর্ক করে বলেন, এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।