মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে সংঘটিত জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বিলুপ্ত করে, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধির মাধ্যমে দলীয়করণের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংগঠনটি অনতিবিলম্বে এটি বাতিলের দাবি উথাপন করেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, "প্রক্সি বা জালিয়াতি রোধের ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে সরকারি চাকরির ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা মূলত সরকারি চাকরিতে দলীয় প্রাধান্য বিস্তারের একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ।"

নেতৃদ্বয় জানান, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান (২৫+২৫) রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, অন্যান্য গ্রেডে ভাইভার নম্বর সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে ১১ ও ১২তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর ৫০ এবং লিখিত ১০০ হবে, আর ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে ভাইভা ৪০ ও লিখিত ৬০ নম্বর নির্ধারণ করা হচ্ছে। তারা বলেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নকে খর্ব করে দেশের বিপুলসংখ্যক যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর ন্যায্য অধিকার হরণের পথ তৈরি করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে তারা বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতার বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণ ও একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন ও সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে মেধা ও যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে স্রেফ দলীয় পদবি বিবেচনায় বিতর্কিত ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে অন্ধ দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে উপাচার্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক-বিমা, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোতে সৎ ও যোগ্যদের সরিয়ে মেরুদণ্ডহীন ও দলীয় দাসদের বসানো হচ্ছে, যা বিগত গণবিচ্ছিন্ন সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণের শামিল।

শিবির নেতারা আরও বলেন, "সরকারি চাকরিতে যোগ্য জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য থাকা জরুরি। প্রশাসনের ৬৫ শতাংশের বেশি জনবল ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের আওতাভুক্ত হওয়ায় প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে দেশের বিপুলসংখ্যক সাধারণ ও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর ওপর। জালিয়াতি প্রতিরোধের দোহাই দিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব। একই সঙ্গে যোগ্যতা ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে উন্নত বিশ্বের কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করে দেশের নিয়োগ ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।"

বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে এই বিতর্কিত ও মেধাবিরোধী বিধিমালা বাতিল করে শতভাগ স্বচ্ছ ও লিখিত পরীক্ষা-নির্ভর মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের তরুণ ও ছাত্রসমাজের মেধা ও ন্যায্য অধিকার সুরক্ষায় এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।