সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে রুস্তম আলী (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামের পুরান সড়কে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত হিসেবে বিল্লাল মিয়া (৩০) নামের এক যুবককে স্থানীয় জনতা ধরে ফেলে এবং পরবর্তীতে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রুস্তম আলী দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামের মৃত হাছন আলীর পুত্র। অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিল্লাল মিয়া একই গ্রামের মরহুম আলীর ছেলে।
তদন্তকারী পুলিশ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহত রুস্তম আলী এবং অভিযুক্ত বিল্লাল মিয়া পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করতেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আজ সকালে যখন রুস্তম আলী বাজারে যাচ্ছিলেন, তখন বিল্লালের বাড়ির সামনে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা বিল্লাল ধারালো দা দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। বিল্লাল রুস্তম আলীর গলা ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের সময় রুস্তম আলীর চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন এবং ঘাতক বিল্লাল মিয়াকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর তারা দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়েই কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং অভিযুক্ত বিল্লালকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
দক্ষিণ বুড়দেও গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম মুক্তকণ্ঠকে জানান, “প্রতিবেশী হিসেবে তারা বসবাস করলেও এতদিন তাদের মধ্যে কোনোপ্রকার ঝগড়াঝাঁটি হতে দেখিনি। তবে, কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. উছমান গনি মুক্তকণ্ঠকে জানান, “পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করেছে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”