চট্টগ্রামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে অপহরণ, যৌন নির্যাতন এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেলের মামলার মূল হোতা নূর হোসাইন নূরকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তারকৃত নূর স্থানীয় পর্যায়ে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে নগরের হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন মণ্ডল তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকা থেকে নূরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে হালিশহর থানার কে-ব্লক এলাকা থেকে এই মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মোয়াজ্জেম নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোর নিউ মার্কেট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে কর্মরত ছিলেন। গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে নূর হোসাইন নূর ও মোয়াজ্জেম তাকে ডেকে নিয়ে যান। তারা জোরপূর্বক তাকে ফইল্ল্যাতলী বাজারসংলগ্ন মেডিসিন বাজারের একটি ভবনের ওপরতলায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ এবং হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোয়াজ্জেম এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি পাহারা দেওয়ার সময় নূর হোসাইন নূর ওই কিশোরকে যৌন নির্যাতন করেন এবং সেই ঘটনার অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পরদিন ২৪ আগস্ট রাত ১টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ভিডিওটি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরের কাছ থেকে দিনের পর দিন অর্থ আদায় ও ব্ল্যাকমেল করা হতো বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কিশোর জানিয়েছেন, সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে তিনি দীর্ঘ সময় চুপ ছিলেন। তবে ক্রমাগত টাকা দাবি, ডেকে নিয়ে নির্যাতন এবং অন্যান্য ছেলেদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, একই প্রক্রিয়ায় আসামিরা আরও অনেক কিশোরকে ব্ল্যাকমেল করেছেন।
নির্যাতনের শিকার ওই কিশোর গত ১২ অক্টোবর হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নামে। মামলার দুই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এখন বাকিদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।