আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে পুনরায় পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী থাকলে, অনুমোদিত তিনটি জাহাজ পর্যায়ক্রমে দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। যে জাহাজগুলো এই রুটে চলবে তা হলো— এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি এবং এমভি টেকনাফ।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকেই পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করা হয়েছিল, তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে জাহাজ চলাচল শুরু হতে দেরি হয়। অবশেষে সরকারি সব সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে জাহাজ তিনটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “পর্যটকের সংখ্যা যাই হোক, প্রস্তুতি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হবে।”
নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়া এই তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ধারণক্ষমতা ৭১৬ জন।
সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করবে এবং বেলা আড়াইটায় সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে। এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ঘাট থেকে ছেড়ে যাবে এবং সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে। অন্যদিকে, এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার ঘাট থেকে যাত্রা করবে এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে ফিরবে।
সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে চার মাস পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের পাশাপাশি রাত্রিযাপনও করতে পারবেন। তবে দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি আগের নিয়ম অনুযায়ী ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করতে হবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটককে দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগের বছরের প্রজ্ঞাপনে আরোপিত বিধিনিষেধগুলো এবারও বহাল থাকছে। এই বিধিনিষেধ অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং এর ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।
পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহনের চলাচলও বন্ধ থাকবে।