দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলো সেন্টমার্টিন। আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপে যাতায়াতের পাশাপাশি রাতযাপনের সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা। তবে প্রশাসনিক জটিলতায় সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আগামী ৫ অথবা ৬ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরুর ইঙ্গিত দিলেও এ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে পর্যটকদের আগমন সামনে রেখে দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর্যটকনির্ভর ব্যবসা বন্ধ বা সীমিত থাকায় আর্থিক সংকটে পড়া স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২৭ অক্টোবর জারি করা সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সেন্টমার্টিনে যাতায়াত ও রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দৈনিক সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন। আগের মতোই ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট নিয়ে দ্বীপে যেতে হবে পর্যটকদের।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক পরিবহনের কথা থাকলেও সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। এ রুটে চলাচলের জন্য এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও এমভি টেকনাফ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অনুমোদন পায়নি জাহাজগুলো।
সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, তিনটি জাহাজ পর্যটক পরিবহনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন। জাহাজগুলো চলাচলের জন্য গত বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। তবে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স এখনো পাওয়া যায়নি। বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট ও চলাচলের সময়সূচিও ঘোষণা করা হয়নি। তা ছাড়া কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় অনুমোদনও বাকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব জটিলতা দ্রুত কাটলে আগামী ৫ বা ৬ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। আগের মতোই কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়ারছড়ায় বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় এখনও কোনো জাহাজকে সেন্টমার্টিনে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ট্যুরিজম বোর্ডের প্রস্তুতিও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে জেলা প্রশাসক ৪ নভেম্বর সেন্টমার্টিন দ্বীপে গিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এদিকে দীর্ঘ এক বছর পর পর্যটকদের জন্য দ্বীপে যাতায়াত ও রাতযাপনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। একসময় দ্বীপের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা ছিল মাছ ধরা ও কৃষিকাজ। তবে গত দুই দশকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে থাকায় অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও সেবামূলক কাজে যুক্ত হন।
পর্যটকদের যাতায়াতে বিধিনিষেধের কারণে গত এক বছরে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহনসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসায় স্থবিরতা দেখা দেয়। এবার নতুন সিদ্ধান্তে এসব ব্যবসা আবার সচল হওয়ার আশা করছেন তারা।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের আগমন সামনে রেখে দ্বীপের সব পেশার মানুষ কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সবাই নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করতে ব্যস্ত রয়েছেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য। ১ নভেম্বর থেকে দৈনিক সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌবাহিনী ও পুলিশ কাজ করছে।